মাহমুদ জামিল

উদোম বুড়োর গবেষণা রহস্য: ভৈাতিক গল্প না ফিউচার ফিকশন?

উদোম বুড়োর গবেষণা রহস্য: ভৈাতিক গল্প না ফিউচার ফিকশন?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।’ কথাটা সত্যি। কথাকে মাঁরপ্যাচে ফেলে প্যারা সন্দেশ বা জিলিপি বানানো গেলেও, সহজ করে তোলা ঢের কঠিন। মোক্ষম করে তোলা তো আরও দুরুহ ব্যাপার।

এই একই কথা খাটে আরও এক জায়গায়। সে হচ্ছে, হাসি। হাসিটা যতো সহজ মনে হয়, অতো সহজ না। ভাড়ামি করে মানুষকে দাঁত কেলিয়ে দেওয়া যায়, কিন্ত সত্যিকার হাসানো? সে বিষম শক্ত কাজ!

আমাদের দেশে তাই হাসানোর মানুষ নেই। সত্যিকার হাসি নেই। তবে ভাঁড়ামি আছে ষোল আনা। আর আছে ভাঁড়ের হাসি। সেই নিমহাসির দেশে হাসির সিন্দুক খুলে বসেছিলেন সুকুমার রায়। তার যতো কাজবাজ, সবই ছিল হাসির খোরাকে ভরা। হোক ছড়া, হোক গল্প, হাসতে তোমাকে হবেই। এমন নয় যে সুরসুরি দেওয়া সে হাসি। সুকুমারের গল্প ছড়ায় ছিল এমনি মিলমিশ রস--- যে হাসির একটা ছোট্ট গাড়ি ঢুকে যেত মনে। তারপর সে চলতে থাকতো নিজের মতো করে। যেই গাড়িটা এখনও চলছে আমাদের সবার মনে।

সুকুমারের পরই নারায়ণ, প্রেমেন্দ্রও বেশি হাসি খুশির খোরাক জুগিয়েছেন আমাদের। কিন্তু এরপর? বেশ একটা বাকসো ফাঁকা অবস্থা নিয়ে ঘুরছি আমরা। হাসি খুশির লেখা নেই বললেই চলে। এমনই এক খরার ভেতর পড়া হয়ে গেল একটি বই। বইটি পড়তে পড়তেই বারকয়েক সুকুমারের হ য ব র ল বইয়ের কথা মনে করেছি। তবে সুকুমারের বই থেকে এই বইট একটু আলাদা। ননসেন্স সব গল্প, তবে বিজ্ঞান আছে বেশ জায়গাজুড়ে। আছে ফিউচার ফিকশনের হাঁতছানি! আর হ্যাঁ, আছে খুবই পরিমিত আর সুক্ষ রসবোধ। খুলে বলতে গেলে ডার্ক হিউমারের বেশ ছড়াছড়ি!

বইয়ের প্লট অভিনব লেগেছে। ভৌতিক কিশোর উপন্যাস নামে বইটির পরিচয় দেওয়া হলেও আমার কাছে লেগেছে জমজমাট এক ফিউচার ফিকশন। বেশ মজা দিয়েছে পাগলাটে বিজ্ঞানী। পাগলাটে বিজ্ঞানীর পিঁপড়া নিয়ে গবেষণার আইডিয়া ছিল এক চমৎকার ধারণা। একটা রহস্যের হাতছানি তো সব সময় ছিলই, তবে সেটা ঠিক ভয়ের নয়, ভয়ের চেয়ে অন্যরকম আর কিছু বেশি!

শেষে একটা কথা না বললেই নয়। গল্পের পর্ব মেলাতে গিয়ে হারিয়ে ফেলতে হয়েছে সঙ্গতি। লেখক বলতে পারবেন, এটা অনিচ্ছাকৃত, না গল্প বলারই রীতি!

এবার তবে বলে ফেলি কোন বইটি নিয়ে হচ্ছে এতো কথার কচকচানি। বইটির নাম ‘উদোম বুড়োর গবেষণা রহস্য’। বইটির লেখক আশিক মুস্তাফা। প্রকাশ করেছে পুন্ড্র প্রকাশনী।