‘ওগো, কী হলো তোমার! আগে তো কখনো দেখিনি তোমার মন খারাপ হতে। আর কতক্ষণ থাকবা নদীর পাশে, বৃষ্টি পড়বে তো মনে হচ্ছে।’
কলির ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম। বাস্তবতা থেকে বহু যোজন দূরে সরে গিয়েছিলাম। কলি এক ঝটকায় ফিরিয়ে আনলো আমায়। কলির মুখের দিকে চাইলাম। বড্ড মায়া হলো ওকে দেখে। একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বললাম, ‘দেখেছো কলি, নদীর পানি কেমন কালো হয়ে গেছে… ভালো লাগছে না। বৃষ্টিটা পড়বে যখন,পড়ুক। একটু পরেই আসছি আমি।’
বলতে বলতে গলাটা ধরে এসেছিল কি? বলতে পারব না। তবে চোখ এড়ালো না কলির। ও আলতো করে ছুঁলো আমাকে। আমার হাতটি নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বললো, ‘আরে… তোমার চোখে তো পানি! এই প্রথম তোমায় কাঁদতে দেখছি। আর কী আজব মানুষ তুমি! নদীর পানি কালো—এতে তোমার মন খারাপের কী আছে শুনি? বলো তো, আদতে হয়েছেটা কী?’
এবারে দীর্ঘ নিশ্বাসটা আরও লম্বা হলো। কলির চোখ দুটো নিরিখ করতে করতে বললাম, ‘এ আমার দুঃখস্মৃতির এক ছেঁড়া পাতা। ও শুনে লাভ নেই… বাদ দাও কলি।’
কলি আমার কাছে আরও ঘন হয়ে আসলো। গলাটা জড়িয়ে মড়িয়ে বললো, আমি না তোমার বউ। আমাকে না বললে কাকে বলবে শুনি?’ এরপরই কপট অভিমানে আঁচল ছুঁড়ে দিলো বাতাসে, ‘না বললে এই এখনই রাগ করবো আমি।’
মনের আকাশে দুঃখমেঘের ঘনঘটা। তাই ঠেলে হাসি পেল আমার। আমি নিবিড় আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিলাম কলিকে। এরপর শুরু করলাম আমার গল্প। শুরু করার আগে সতর্কবার্তা দিতে ভুল করিনি। বললাম, ‘চুপ করে শুনতে হবে—প্রশ্ন করা যাবে না। রাগও করবে না কিন্তু…’
কলি লম্বা করে মাথা নাড়ল। চুলগুলো নুয়ে পড়লো মাটির ঘাসে। বাচ্চা মেয়েদের মতো ন্যাকা সুরে বললো, ‘একদম করব না। বলো তুমি।’
কলি ডাগর দুই চোখ মেলে তাকালো। ওর দিকে সম্মোহিতের মতো চেয়ে থেকেই বলতে শুরু করলাম আমার গল্প……..
মেয়েটির নাম ছিল চন্দ্রিমা। এমন চঞ্চল মেয়ে! আমি তাকে ‘গাইছা-বানর’ বলে ডাকতাম। যদিও খুব রাগ করতো। তবে এই থেকেই মেয়েটির সাথে কথা বলার শুরু!
আমি তখন কিশোর—না, না, কিশোর-যুবক বলা যায়। সাভারের উপকন্ঠে আমাদের বাসা। বাসার সামনেই একটি বড় মাঠ—মাঠের অর্ধেক পাশে অনেক উঁচু, আর বাকি অর্ধেকটা নিচু। বর্ষাকালে নিচের অংশটা ডুবে যেত। পানির দাওয়াত পেয়ে ঝাকে ঝাকে মাছ এসে জুটত। আর সেই মাছ ধরাই ছিল আমার বর্ষাকালের একমাত্র নেশা।
একদিন দেখলাম ওই মাঠে টিন নিয়ে এসে বাড়ি বানাচ্ছে কেউ। দেখেই মাথায় বাঁজ পড়লো আমার—বর্ষাকাল আসবে ক’দিন পরে… বাড়িঘর করলে মাছ আসবে কোত্থেকে? এটুকু ভাবতেই মনটা বিষিয়ে গেল! আর দেখো কান্ড, দুই-তিন দিনের মধ্যে হয়ে গেল বাড়িটাও।
তবে একটা জিনিস বুঝতে ভারি বেগ পেতে হলো। মানুষ থাকবে কী করে ওখানে? বাসায় বিদ্যুতের লাইন নেই। নলকূপ নেই। একদিন দেখি পানির জন্য একটি কুয়া খুঁড়লো, আর আশ্চর্যের ব্যাপার—সেখান থেকে পানিও উঠলো! বাড়ির মানুষজন ব্যবহারও করল সেই পানি। সেই কূয়ো দেখে আব্বু আম্মু আমায় শাঁসালো, ‘পানি উঠলে ওই মাঠে যাওয়া যাবে না। কুয়া আছে—পড়ে গেলে মরা ছাড়া উপায় নাই!’ তাই শুনে আমার আফসোস দেখে কে! পুরো বর্ষাকালটা কাটল আমার বাড়িটার দিকে তাকিয়ে রাগে নিশপিশ করতে করতে।
একদিনের কথা। নতুন সেই বাড়িটার এক মহিলা এলেন আমাদের বাড়ি। আম্মু পরিচয় করিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ রে, এ হচ্ছেন তোর বিলকিস আন্টি । আমাদের সঙ্গে পরিচিত হতে আসছেন। সালাম কর আন্টিকে।’ তাকিয়ে দেখি আধময়লা শাড়ি পড়া এক মাঝবয়সী মহিলা। দাঁড়িয়ে আছেন এক বাটি পায়েস নিয়ে। সালাম করতে মন সায় দিলো না আমার। একে তো গ্রামের মানুষ। ওদিকে বর্ষাকালটাও খেয়ে দিয়েছেন এই আন্টি! আন্টির গুষ্টি মারি! রাগে কড়মড় করতে লাগলাম আমি। তবু জোর করে সালাম দিতে গিয়ে দেখি—এত সুন্দর চেহারার এক মেয়ে ওনার সাথে! মেলাতে পারছিলাম না—এটা বিলকিস আন্টির মেয়ে! এত ফর্সা মুখ, সিল্কি চুল কোমর পর্যন্ত, আমার মতই শুকনা-হাড়-হাড্ডি! চোখ দু’টো ছোট—চাইনিজদের মতো। আর রঙ তুলিতে আঁকা যেন চোখ! তার চেয়ে আরও সুন্দর—চোখ দুটো দু’রঙের! এক চোখের মণি কালো, আরেক চোখের মণি আকাশি-নীল!
আমি অবাক—এ রকম মানুষও পৃথিবীতে হয়! ইচ্ছে হচ্ছিল কথা বলি, পরিচিত হই। কিন্তু আম্মুর সামনে কী করে বলবো! মেয়েটা আবার চুপচাপ—একটা কথাও বলল না।
সেদিন আবার আমাদের বাসায় বিরিয়ানি রাঁন্না হয়েছিল। আম্মু বললেন ওদেরকে খেয়ে যেতে। মেয়েটি ঠিক আমার পাশেই টেবিলে বসল! এত তৃপ্তি নিয়ে খেল—আমি শুধু তাকিয়ে দেখলাম। কথা বলতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু পারলাম না। এরপর থেকে প্রতিদিন দেখা হতো। কিন্তু কীভাবে কথা শুরু করবো—উপায় পাচ্ছিলাম না। তখন আর মাছ ধরতে না পারার দুঃখ নেই আমার। আফসোস বদলে গেছে আনন্দে।
একদিন দেখি জামগাছে উঠে চঁন্দ্রিমা জাম পারছে! আমি অবাক—এত বড় গাছে মেয়েটা জাম পাড়তে উঠলো কীভাবে! কথা বলার এই সুযোগ! কিন্তু কী বলি! কীভাবে বলি! কিছু না পেয়ে বলে বসলাম ওর মায়ের বলা সেই কথাটা—‘গাইছা-বানর!’
বলতে না বলতেই ঝুপ করে গাছ থেকে নেমে পড়ল চন্দ্রিমা। যতগুলো জাম পেরেছিল— আমার হাতে চেপে দিয়েই চলে গেল। পেছন ফিরে চাইলোও না একটিবার! আমি শুধু বোবার মতো তাকিয়ে রইলাম।
ধুর! কী করতে কী করলাম। আমি আর দাঁড়ালাম না। এক ঝুড়ি জাম পেরে চললাম নদীর পাড়ে। হিসেবে ভুল হলো না। দেখি চঁন্দ্রিমা মন খারাপ করে বসে আছে সেখানে। তাকে জামগুলো দিয়ে বললাম—“আমাকে মাফ করে দাও—আর এভাবে বলবো না।” হঠাৎ চঁন্দ্রিমা এমন খুশি হলো জাম পেয়ে। আমাকে অবাক করে দিয়ে কথা বলে উঠলো। ভাবতেও পারিনি, এত সুন্দর মানুষটা আমার সাথে কখনো কথা বলবে!
ভাঙা গলার ভীষণ মিষ্টি স্বর ছিল তার। গাইতো অসাধারণ গান—নদীর পাড়ে বসে। ওদের নাকি ছোটবেলায় এনজিওর লোকেরা এসে গান শেখাতো!
ওর কাছ থেকেই জানলাম— পাঁচ ভাইবোন ওরা। দুই ভাই, তিন বোন। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। নদীভাঙনে তাদের সব নিঃশেষ হয়ে যায়—তাই ঢাকার এই মাঠে বাড়ি বানিয়ে থাকতে এসেছে। জায়গাটা নাকি ওদের মামার। কিছুদিন থাকার কথা। এমনি কথায় কথায় আমাদের পরিচয়টা গড়ালো অনেকদূর।
চঁন্দ্রিমার দুই ছিল দুই বড় ভাই। একদম ভালো লাগত না ওদের। ওকে শুধু শুধু মারত—কারণে-অকারণে বঁকা দিত। প্রতিদিন বাসায় থেকে গালাগালি শুনতাম। এতোসব দেখেও থামানোর শক্তি ছিল না আমার—চোখের সামনেই শুধু দেখে যেতে হতো। আমি আম্মুকে বলতাম—‘দ্যাখো মা, চঁন্দ্রিমাকে কেমন মারে।’ আম্মু তখনই মেয়েটাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসত।
চঁন্দ্রিমার পরিবারে সবার মুখে একটাই কথা—
“তোই পয়দা হইলি কেন? কুফা একটা! তুই আসার পরেই যত অভাব আমাদের সংসারে! শেষমেশ বাড়িটাও তোর জন্য নদীতে ডুবলো! রাক্ষুসী। জলে ডুইবা মরতে পারস না রে জলরাক্ষুসী।”
চঁন্দ্রিমার বাবা হাঁক পাড়তো—
“তোর মতো মাইয়া মরলেও চোখে এক ফোঁটা পানি আইবো না!”
তার দু’চোখ ছিল দুই রঙের। সেজন্যেইনাকি অলক্ষুণে—কুফা! আমি শুধু শুনতাম, আর ভাবতাম—আল্লাহ বানিয়েছে, আল্লাহই তো এমন চোখ দিয়েছে। আল্লাহ নিলে তাদের ঘর নিয়েছে। চোখ দু’টির দোষ কী? কেন হতে যাবে ও জলরাক্ষুসী?
প্রতিদিন স্কুল থেকে এসে তার সাথে কথা বলতাম। অদ্ভুত মেয়েটার সব কথা মন দিয়ে শুনতাম। জানো কলি—তার আকাশি নীল চোখটায় সে দেখতে পেত না। ওটা ছিল অন্ধ। শুধু বাম পাশের কালো চোখ দিয়ে দেখত। বেচারি জন্মগতভাবে এক চোখে দেখতে পেত না! এই কারণেই সে বাড়িতে মা-বাবা-ভাই সবার কাছে মার খেত। ভাই দু’টো বলত—
“এক তো কুফা—তারপর আবার কানা! বিয়া দিতে পারমু না! মইরা যা! মরলে চোখ দিয়া পানি ও ফালামু না!”
কিন্তু আকাশি চোখটার জন্যই তো ওকে বেশি সুন্দর লাগতোা। ওর ভাইয়েরা কি তা বুঝতো না?
জানো কলি—সে না খেতে খুব ভালোবাসত। এতোকিছুর পরেও সে বলতো—“আমার মনে কোনো কষ্ট নাই, খাবার পেলে আমার মন ভালো হয়ে যায়।” কিন্তু ওদের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। দুটি দেশি মুরগি ছিল—ওদের ডিম, আর ডাল-ভাত খেয়েই দিন চলত। আর এদিকে বেচারি ভয়ানক ভোজনরসিক! মনে মনে ভাবতাম—এমন পরীর মতো মেয়েকে আল্লাহ এমন পরিবারে কেন পয়দা করল!
সারাদিন তার মায়ের কাছে একটাই আবদার—“ওটা খাবো”, “এটা খাবো”… এই আবদার করতে করতে একসময় বিরক্ত হয়ে মা, ভাইয়েরা বেতের কঞ্চি দিয়ে মারত। চঁন্দ্রিমার জন্য একটি আলাদা বেতের কঞ্চি রাখা থাকত!
এত ফর্সা ছিল—মারলে প্রতিটি দাগ ভেসে উঠত! আমি কী-ই বা করব—চোখের সামনে দেখি, কিছুই করতে পারি না! নদীর পাড়ে তার জন্য কাঁদতাম—ওর সাথে বসেই। আর চঁন্দ্রিমা হাসতে হাসতে বলত—“মেয়েদের মতো কাঁন্না করছো যে!”
নদী তখন ছিল খুব সুন্দর—নদীর পাড়ে কাশফুল…
যখনই বাসায় ভালো রাঁন্না হতো—মুখে দিয়ে খেতে যাই, ঠিক তখনই কাঁন্নার শব্দ—বুঝতাম আবার খাবার চাওয়ার জন্য মার খাচ্ছে। সেই অবস্থায় আমার মুখে কীভাবে খাবার ঢোকে! কিন্তু এদিকে টেবিলে বসে না খেলে আব্বুর মার খেতে হবে।
চোখ ভেজা ভেজা—তবু খাই। আর চঁন্দ্রিমা ওদিকে খাবার চাওয়ার জন্য মার খায়…
কোথায় আছে না—“কেউ পানির তৃষ্ণায় মারা যায়, আবার কেউ পানিতে ডুবে!”
প্রতিদিন টিফিনের টাকা জমাই—গাড়ি ভাড়া জমাই—তার জন্য এটা সেটা নিয়ে যাই।
চালতার আচার, চানাচুর, ঝালমুড়ি, চকলেট, কুলফি, চিকোবার, কিটক্যাট! নাবিস্কো আর পাইন্যাপল বিস্কুট ছিল তার ফেভারিট!
বাসায় ভালো রাঁন্না হলেও তাই। লুকিয়ে নিয়ে যেতাম —তার তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া দেখলে জুড়িয়ে যেত মন।
চঁন্দ্রিমাও কম ছিল না—বাসায় গুড় এলেই আমার জন্য নিয়ে আসত।
মসজিদের বিরিয়ানি পেলে সেটাও বাটিতে করে এনে দিত।
প্রতিদিন একটি করে ফুল আনবেই—কখনো আম, কখনো পেয়ারা, কখনো জাম, কখনো লিচু। একদিন গোলাপি ডুমুরও এনেছিল! আমি জানতাম না খাওয়া যায়—কিন্তু খুব মিষ্টি ছিল—এখনো মনে আছে।
আমার ইচ্ছে ছিল—বড় হলে, টাকা-পয়সা হলে—ওকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবো। যা খেতে চাইবে—সব খাওয়াবো। যেখানে যেতে চাইবে—সব জায়গায় নিয়ে যাবো! আর ওই বেত দিয়ে ওর দুই ভাইকে খুব মারবো!
ও কখনো পার্কে যায়নি—শিশুমেলার কথা বললে বিশ্বাসই করত না—ওকে নাকি ঢুকতে দেবে!
জানো—ওর জ্বর হলে দেখার কেউ ছিল না। জ্বরে ব্যথায় ডাকলে পেত বেতের বাড়ি! অন্ধকার ঘরে ফেলে রেখে সবাই চলে যেত। নাপা ট্যাবলেট পর্যন্ত এনে দিত না—আমার আম্মুই দিত। তাও জ্বর নিয়ে নদীর পাড়ে আসত—আমার জন্য। আর আমাকে আঁকড়ে ধরত—কষ্টে কাঁদত—
“দেখো না—কতো জ্বর আমার… পারছি না।”
ওর গায়ের তাপ যেন আমার বুক পোড়াত।
আমার ভেতরে গভীর এক ক্ষত তৈরি হয়ে গেছে।
শেষ যেদিন দেখা—ওদিন খুব কাঁদছিল, ভীষণ জ্বর। তার সেই ফর্সা মুখে চার আঙুলের দাগ!
এমন ফুলের কলির গায়ে হাত দেয় কীভাবে!
মুখে শুধু বলছিল—“আর পারছি না…”
ঠিক সেই রাতেই আমারও জ্বর হলো। সারারাত তার কথাই মাথায় ঘুরেছে। মনে হচ্ছিল চঁন্দ্রিমা আমাকে জোরে জোরে ডাকছে—“বাঁচাও… আমারে বাঁচাও!”
সারারাত ঘুমাতে পারিনি। উঠবার শক্তি ছিল না।
ফজরের কিছুক্ষণ পর মসজিদের মাইক থেকে কারো মৃত্যুর খবর প্রচার হলো… একটু পরেই চোখে ঘুম এলো।
হঠাৎ দাদু ডাকলেন—ঘুম থেকে ওঠো। উঠে দেখি আম্মু কাঁদছে, আব্বু পাঞ্জাবি পড়ে তৈরি হচ্ছে। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না—এই সময় তো আব্বু দোকানে থাকে! বাইরে উকি দিয়ে দেখি—অনেক লোক। জ্বরের মধ্যে মাথাটা টেনে নিয়ে গেলাম—
চঁন্দ্রিমা আর নেই।
শুধু পড়ে আছে তার নিথর দেহটা।
মাঠে যে কুয়াটা ছিল—সেদিন রাতে পানি তুলতে গিয়ে সেখানেই পড়ে… চন্দ্রিমা ডুবে গেছে সেই কালো পানিতে।
কলি, এই নদীর পানির মতোই ছিল সেই পানি ...…..!