বনের উত্তর প্রান্তে নাগেশ্বরী ফুলের রাজত্ব। তার কোলে নতুন একটি শহর গড়ে উঠেছে। নাগনগরী।
এই শহরে বাস করে সাপেরা। আগে থাকতো তারা গাছের ফোঁকরে, এখন থাকে সাপার্টমেন্টে।
কেউ বলে, “বনের সবচেয়ে সভ্য প্রাণী এখন সাপ।”
তাদের সভ্যতা এতটাই উন্নত যে, কামড়ানোর আগে তারা নোটিশ দিয়ে দেয়।
প্রতিটি সাপের কাছে আছে স্মার্টফোন। তারা বনের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপ চালায় - “Venomverse”।
এখানে বিক্রি হয় বিষ। কেউ হয়তো ভয় দেখাতে চায়, কেউবা সাবেক প্রেমিককে শিক্ষা দিতে চায়, কেউ আবার রাজনীতি করে—সবাই কিনে নেয় এক ডোজ করে।
সাপেরা বলে, “আমরা আর কামড়াই না, শুধু ডেলিভারি দিই।”
Venomverse এর সিইও হলো পদ্মগোখরো নাগেশ।
সে বলে, “যে জাতি নিজেকে সভ্য ভাবে, তারাই সবচেয়ে বিষাক্ত।”
তার কথায় করতালি দেয় কেউটে, কালাচ, শঙ্খচূড়, চন্দ্রবোড়া, পাইথন, আর একঝাঁক কচি সাপছানা।
কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় মণিদাকে নিয়ে। মণিদা একসময় ভালো বক্তা ছিল। তার বিষ ছিল নরম, কিন্তু কথা ছিল ধারালো।
সে বলতো, “আমরা যে বিষ বেচে খাই, একদিন সেই বিষই আমাদের গিলে খাবে।”
নাগেশের সাম্রাজ্যে এই কথায় শোরগোল পড়ে যায়।
পরের দিন Venomverse এর HissTV'র স্ক্রলে দেখা যায় - “বিজ্ঞপ্তি: মণিদা সাপদ্রোহী। তার বিষে পচন ধরা।”
মণিদা পালিয়ে যায় বনের দক্ষিণ প্রান্তে। সেখানে এখনও কিছু পুরোনো প্রাণী থাকে। যারা সোশ্যাল মিডিয়া বোঝে না, স্টার্টআপ বোঝে না, শুধু সূর্যের আলোয় দেহ গরম করে নেয়।
পুরোনো প্রাণীদের দেখে মণিদা ভাবে, “সভ্যতা মানে বিষে কম মারা নয়, বরং সুন্দরভাবে বাঁচার কৌশল জানা।”
কয়েকদিন পর নাগেশ HissTV তে ঘোষণা দেয়, “Venomverse এখন মেটাভার্সে যাচ্ছে! আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সাপেরা বাস্তব নয়, ভার্চুয়াল বিষ ছড়াবে।”
বাস্তব জগতে না গিয়ে, তারা ভার্চুয়াল জগতে বিষ ছড়াতে শুরু করে। খেলায় খেলায়, অনলাইনে।
ক্রমে জঙ্গলের আলো-বাতাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সাপেরা প্রাকৃতিক বিষ ব্যবহার করাই ভুলে যায়। নাগেশ্বরী ফুল আগের মতোই দুলতে থাকে।
একদিন, হঠাৎ বেজির দল আক্রমণ চালায়। তারা সাপার্টমেন্টে ঢুকে একের পর এক সাপ নিধন করে ফেলে।
কেউ লড়াই করতে জানে না, বিষে কামড়াতে ভুলে গেছে সবাই।
ম্যাসাকার শেষে বেজিরা উত্তরের বনকে “সাপমুক্ত অঞ্চল” ঘোষণা করে। নাগেশ্বরী ফুল আগের মতোই দুলতে থাকে।