ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের রবিবার সন্ধ্যায় সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম নতুন ভবনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা থেকে লাভবান হয়েছে।
কমিশনের সভাপতি আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, ওই ঘটনার সময় ৯২১ জনের মতো ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিল। তার মধ্যে ৬৭ জনের মতো লোকের কোনো হিসাব মিলছে না। তারা কোন দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে, এটা ঠিক বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারেও আমরা সরকারকে সুপারিশ করেছি ওই ব্যক্তিরা কোথায়, কেন আসলো; সেটা খুঁজে বের করার জন্য। এ বিষয়ে ভারতের কাছে জানতে চাওয়ার জন্য আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছি।’
কেন এই ঘটনা ঘটল, সে প্রসঙ্গ টেনে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সভাপতি আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, ‘ওই সময়কার সরকার তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।’
সেনা অভিযান কেন করা হয়নি— সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মঈনের কারণে সেনা অভিযান হয়নি। জেনারেল মঈন বলেছিলেন, সেনা অভিযানে গেলে ভারত এখানে হস্তক্ষেপ করত। আমি যদি এখানে অভিযান চালানো শুরু করতাম, তাহলে ভারত এখানে ইন্টারফেয়ার করত এবং ভারত ১৯৭১ সালের মতো বাংলাদেশ থেকে তারা আর ফিরে যেত না। দুই দিনে যখন ৫৭ অফিসার নিহত হয়, তখন দেশে আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকে না।’