অনিয়মের অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচও থেকে হাসিনার মেয়ে পুতুলের পদত্যাগ

অনিয়মের অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচও থেকে হাসিনার মেয়ে পুতুলের পদত্যাগ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত এবং পলাতক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

ডব্লিউএইচও'র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে বুধবার পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর প্রকাশ করেছে।

তবে তার এই পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি জাতিসংঘের এই সংস্থাটি।

এই সংস্থার ওয়েবসাইটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে এখনো তার নাম, ছবি এবং আগের নিয়োগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি রয়েছে।

তবে রয়টার্স বলছে, অবিলম্বে এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের একটি কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়ই পদত্যাগ করেন তিনি।

ডব্লিউএইচও সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে "চীনে তার সফরসংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক জালিয়াতি করার" এবং তার একাডেমিক যোগ্যতা সম্পর্কে ভ্রান্ত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনে। ২০২৬ সালের তেসরা জুলাই ডব্লিউএইচওকে পাঠানো তার আইনজীবীদের একটি পৃথক চিঠিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যেটি রয়টার্স দেখেছে।

সায়মা ওয়াজেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

একইসঙ্গে, বুধবারের পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ এনেছে ডব্লিউএইচও।

সায়মা ওয়াজেদ জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এই সংস্থাটিতে যোগদানের আগেই এই জমিটি অধিগ্রহণ করেছিলেন তিনি। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় ওই জমিটি তিনি পেয়েছিলেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর কেবল তার মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাই নয় বরং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অনিয়ম, দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। কিছু মামলার রায়ও হয়েছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই শেখ হাসিনা এবং তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ জয় ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

এই মুহূর্তে সায়মা ওয়াজেদ দিল্লিতে রয়েছেন বলে জানতে পেরেছে বিবিসি। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে গত আড়াই বছর ধরে দিল্লিতেই তার বাসস্থান। তবে প্রয়োজনে অন্যান্য দেশেও যাতায়াত করছেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে যা বলেছেন সায়মা ওয়াজেদ

পাঁচ বছরের জন্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের এই সংস্থাটির আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ওই পদের মেয়াদ ছিল।

তবে, দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে গত বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করলে জুলাইতে তাকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় জাতিসংঘের এই সংস্থা, ডব্লিউএইচও।

রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ লিখেছেন, "আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং সেটি সততার সঙ্গেই পালন করেছিলাম।"

"যেহেতু আপনি আমাকে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা থেকে বিরত রেখে চলেছেন তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার আস্থা এবং বিশ্বাস হারিয়ে গেছে," লিখেছেন ওয়াজেদ।

তিনি আরো লিখেছেন, "আপনার সিদ্ধান্তে আমাকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর এক বছর ধরে কোনো বেতন বা পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক অবস্থা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।"

এর আগে, জুলাইতে এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ আইনজীবীর মাধ্যমে চীন সফরে জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন, ওই ভুল প্রশাসনিক একজন কর্মকর্তা করেছিলেন। যিনি দৈনন্দিন বিল পরিশোধের আবেদনগুলো নিয়ে কাজ করতেন। ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।

একইসঙ্গে, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করার কথা ডব্লিউএইচও'র মহাপরিচালককে জানিয়েছিলেন।