জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসাবে তুলে ধরে ওই সময়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এ অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়।
অন্য ছয় আসামি হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। তাদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের হামলার ঘটনায়’ উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তামীম বলেন, “১৪ জুলাই শেখ হাসিনা যখন আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বা ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তারপরে তারা (আসামিরা) এই বক্তব্যকে ক্যারি আউট করে তাদের সাবঅর্ডিনেটদের দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালান এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথন করে ছাত্রদের হত্যা ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করেন।”
কয়েকজন আসামি এখনো ‘পলাতক’ থাকায় শুরুতে তাদের নাম প্রকাশে অনীহা দেখালেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামাল, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ও ইনানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের তথ্য দেন প্রসিকিউটর তামীম।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করার আবেদন করা হয়। লিখিত অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০০ থেকে ১ হাজার জনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল।