সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় ঈদের দিনে মসজিদ থেকে ফেরার পথে সংঘটিত আলোচিত ওয়ারিস আলী হত্যা মামলায় ১১ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। মামলাটিতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অন্য ১১ জন আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের অ্যাডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পৌর শহরের ওয়েজ খালি এলাকার মৃত গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া ও সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া। সাত বছরের সশ্রম দণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, এলাকার রমিজ আলী, নুরুল মিয়া, খুরশেদ আলম, নুরুজ্জামান। এছাড়াও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, ওই এলাকার রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর ও তাহের মিয়া।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকার বাসিন্দা হায়দার আলী ও সাবেক কাউন্সিলর খুরশেদ আলমের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়কে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই হায়দার আলী ও খুরশেদ আলমের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে পরদিন ২৯ জুলাই ঈদুল ফিতরের নামাজের পর স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মসজিদে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে চান। কিন্তু খুরশেদের লোকজন সালিশ না মেনে মসজিদ থেকে চলে আসে। পরে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে হায়দার আলী ছোটভাই ওয়ারিস আলীর ওপর হামলা করে খুরশরদের লোকজন। এই সময় উভয় পক্ষের মধ্য সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় ওয়ারিস আলী গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত ওয়ারিসের বড় ভাই হায়দার আলী।
দীর্ঘদিন মামলা শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। রায় ঘোষণা কালে খুরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান পলাতক ছিলেন। এই মামলার ১১ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।