স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে পরিবারে শিশুর লালন-পালন ও মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সামাজিক সচেতনতা ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অনেকটাই কমে এসেছে। আধুনিক জীবনধারার প্রভাবে অনেক মা বিভিন্ন কারণে শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না। এর ফলে শুধু শিশুর শারীরিক বিকাশই নয়, মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপনের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। এ জন্য জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুস্থ, সক্ষম ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। মায়ের দুধ শিশুর জন্য সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি।
তিনি বলেন, পরিবারে অশান্তি, অবহেলা কিংবা দীর্ঘ সময় শিশুকে মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখার নেতিবাচক প্রভাব শিশুর আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। তাই পরিবার ও সমাজের সব স্তরে শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক এইচএমপিভি (HMPV) পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সুষম খাদ্যের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিশুর খাদ্য হিসেবে বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যগত সুফল নিশ্চিত করতে এখনও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নিয়মিত ও সঠিকভাবে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করালে মায়েদের স্তন ক্যান্সার এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। তাই মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।