Sunday November 19, 2017
ঘুরে আসি
29 December 2014, Monday
প্রিন্ট করুন
লাখো পর্যটকের ভীড় এখন কক্সবাজারে
জাস্ট নিউজ -
শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার থেকে ॥ কক্সবাজার, ২৮ ডিসেম্বর (জাস্ট নিউজ): শীতের শান্ত সাগর ও হিম হিম মৃদু হাওয়া পর্যটন নগরী কঙবাজারের সৌন্দর্য্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ সমুদ্র সৈকতের এ সৌন্দর্য্য দেখতে এখন কঙবাজারে ভীড় জমিয়েছে লাখো পর্যটক। এ বছর রেকর্ড পরিমান পর্যটক এসেছে পর্যটন নগরী কঙবাজারে।

সী-বীচের জলরাশি ও ঢেউয়ের নৃত্য, প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ইতিমধ্যে পর্যটকে ভরে গেছে কঙবাজার। সাগরপাড়ের আবাসিক হোটেল ছাড়িয়ে শহরতলীর আবাসিক হোটেলগুলোও বুকিং হয়ে গেছে। কোথাও রুম খালি নেই।

পর্যটন নগরীতে ছোট-বড় ৩ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও ২ শতাধিক গেস্ট হাউস ও কটেজ রয়েছে। এসব স্থানে প্রতিদিন দেড় লক্ষাধিক মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

কেবল স্থানীয় পর্যটক নয়; দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটন নগরী কঙবাজার সমুদ্র সৈকত। মনের মিতালি বিনিময়ে এখানে ছুটে এসেছে দেশী বিদেশী অসংখ্য পর্যটক। ঘুরছেন হিমছড়ি, দরিয়া নগর, পাথুরে বীচ ইনানীতে। এছাড়া তাদের অনেকে ছুটছেন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

এ দিকে কঙবাজারে ভ্রমণে আসা লোকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেভাগে নেয়া হয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়া নগরসহ ৭টি পর্যটন স্পটে কাজ করছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ। হোটেল মালিকরাও এবারের মৌসুমে আগের চেয়ে অনেকটা সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এ ফাঁকে পর্যটকে ভরে গেছে সৈকত নগরী কঙবাজার। তাছাড়া সৈকতে গোসল তথা গা ভেজাতে গিয়ে পর্যটকরা যেন প্রাণহানির শিকার না হয়-সে বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে লাইফ গার্ড সংস্থাগুলো।

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলি বিচ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হৈ হুল্লোড়, ছুটোছুটি আর সাগরের পানিতে আনন্দ গোসলে, নাগরিক জীবনের চাপ ঝেড়ে প্রকৃতির সাথে মিতালীর চেষ্টা ভ্রমনপিপাসুদের। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য পর্যটন স্পটসমূহেও প্রচুর পর্যটক বেড়েছে। এতে দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা পর্যটন শিল্প চাঙ্গা হতে শুরু করেছে।

আগত পর্যটকেরা ছুটে যাচ্ছে সেন্টমার্টিনের স্বচ্ছ নীলাব পানি, অসংখ্য কোরালের ছড়াছড়ি, সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য ও সমুদ্র ঘেরা পাহাড় ও নদী সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে সাগরপাড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে পর্যটকেরা। সাগরে গোসল করতে নেমে অপ্রত্যাশিত প্রাণহানি এড়াতে সচেতনতামূলক বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

কঙবাজার-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-ঢাকা রোডে নাজুক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হলেও আপাতত সপ্তাহব্যাপী দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করায় কঙবাজার মূখী হয়ে উঠেছে পর্যটকরা। তবে আগামী ৫ জানুয়ারী বিরোধী দলের কর্মসুচি কিছুটা হলেও আতঙ্ক ভর করছে ব্যবসায়ীদের উপর। এরপরও গত দুই দিনে আশানুরুপ পর্যটক আশান্বিত করেছে জেলার পর্যটন শিল্পকে। পর্যটক দম্পতি স্বপন ও মণি জানালেন, আবাসিক হোটেলের কক্ষ পেতে সমস্যা হবে তাই কয়েকদিন আগে চলে এসেছি। এখন পরিবেশ ভাল হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হয়েছে।
পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আসা রবিন নামের এক পর্যটক জানান, সমুদ্র সৈকত তাকে প্রচুর আনন্দ দিয়েছে। সারা বছর তিনি এ আনন্দ বুকে নিয়ে থাকতে চান।

রবি লাইফ গার্ডের ইনচার্জ ছৈয়দ নুর জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রস্তুত। সৈকতের সী ক্রাউন, সী ইন, সী গাল, লাবণী, শৈবাল ও ডায়াবেটিস পয়েন্টেসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ‘লাইফ গার্ড’ কর্মীরা রয়েছে। তারা প্রতি মুহুর্তে পর্যটকের সেবায় কাজ করছে। তবে নিজেকে বাঁচতে হলে আগে নিজেকেই ‘সজাগ’ থাকতে হবে বলেও জানান পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্বপালনকারী এ কর্মী।’

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েন অব কঙবাজার (টুয়াক) এর সভাপতি কিবরিয়া খান জানান, কঙবাজারে এসেই পর্যটকরা ছুটছেন সৈকতে। নীল জলরাশিতে গা ভাসাতে যেন তাদের উচ্ছাসের শেষ নেই। পর্যটকদের জন্য কঙবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও অন্যান্য পর্যটন স্পট সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

কঙবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সমপাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, নানা কারণে এ বছর কঙবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা করেছিলাম আমরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাসীর নানার বাড়ী দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত থেকে বেশী দিন পর্যটকদের থেকে দূরে রাখতে পারেনি। এতে হোটেল মালিকদের ব্যবসাও ভালোই হচ্ছে।

কঙবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেছেন, সৈকতে ভ্রমণে আসা পর্যটকের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। বৈরী পরিবেশ ও ভাটার সময় যেন পর্যটকেরা সাগরে নামতে না পারে, সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে সতর্ক রাখা হয়েছে। দর্শনীয় স্থান ও বিপণিকেন্দ্রগুলোতেও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া চুরি, ছিনতাই এবং ইভটিজিং ঠেকাতেও পুলিশ কড়া সতর্কাবস্থানে রয়েছে।’

(জাস্ট নিউজ/প্রতিনিধি/এএইচ/২২৩০ ঘ.)
মতামত দিন
ঘুরে আসি :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ