Saturday October 21, 2017
মুখোমুখি
23 August 2014, Saturday
প্রিন্ট করুন
‘পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা জরুরি’
জাস্ট নিউজ -
ঢাকা, ২৩ আগস্ট (জাস্ট নিউজ) : নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোপরি সরকারের নানা উদ্যোগেরও সুদিনে ফিরছে না দেশের পুঁজিবাজার। গত তিন বছর ধরেই টাল-মাতালভাবে পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। মন্দাবাজারেও অনেকে দিব্যি ব্যবসা করছেন, তবে লোকসানের মুখে পড়ছেন বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী। এর মূল কারণ হচ্ছে- বাজার সর্ম্পকে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা। এটাই স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। এমতাবস্থায় পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিনিয়োগকারীদের সচেতনা ও আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজ গ্রিন ডেল্টা সিকিউিরিটিজ লিমিটেড (জিডিএসএল)’র কর্ণধার সিইও ওয়াফি এস এম খান।

সম্প্রতি জাস্ট নিউজ এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে পুঁজিবাজারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন অর্থনৈতিক প্রতিবেদক আসাদুজ্জামান আজম।

জাস্ট নিউজ : পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা কিভাবে দেখছেন ?

ওয়াফি এস এম খান:  বর্তমানে বাজারে প্রচুর বিনিয়োগকারী রয়েছে। তারা শেয়ার কিনতে চায়, কিন্তু যারা ইনভেস্ট করে আছেন, তারা শেয়ার বিক্রি করছেন না। ফলে অনেকে বিনিয়োগের আশায় ঘুরছেন, কিন্তু শেয়ার পাচ্ছেন না। বাইরের (ফরেন) প্রচুর বিনিয়োগকারী আছেন, যারা স্টক নিতে চাইছেন- কিন্তু পাচ্ছেন না। এ মুহূর্তে যারা বাজারে নতুন আইপিও নিয়ে আসতে চাইছেন, তাদের সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলে মাকের্টে টার্নওভার বেড়ে যাবে।
 
বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১০ সালের পরে গত তিন বছরে মানুষ রিসার্চের উপর ফোকাস করা শুরু করেছে। যে কোন হাউজে গেলে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীই কোম্পানির উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, পরিচালনায় কারা এসব খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। আগে এটা ছিল না, অনেকটা গুজবের মধ্য দিয়ে যেত। এখন বুঝা যায়- বিনিয়োগকারীদের মাঝে সচেতনতা বাড়ছে, সচেতনতা যত বাড়বে বাজার আস্তে আস্তে স্থিতিশীলতার পথে যাবে।

জাস্ট নিউজ:  পুঁজিবাজারের জন্য ক্যাপিটাল গেইন ট্যাঙ প্রত্যাহারকে আপনি কিভাবে দেখছেন ?

ওয়াফি এস এম খান:  পুঁজিবাজার খুবই সংবেদনশীল। ক্যাপিটাল গেইন প্রত্যাহারের বিষয়টি আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি। ক্যাপিটাল গেইন ট্যাঙের প্রত্যাহারের প্রভাব খুব কম সময়ে বোঝা যাবে না। এ জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ে সরাসরি কোনো বাজেট আসে না। কিন্তু যেসব সেক্টর ঘিরে বাজার পরিচালিত হয়, দেখার বিষয় সেসব খাতে কি বরাদ্দ থাকছে। যার উপর অনেকটা বাজারের গতি নির্ভর করে।

জাস্ট নিউজ : বাজেটে নন লিস্টেট কোম্পানির কর কমানো হয়েছে, এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কি ?

ওয়াফি এস এম খান:  দেখুন, বাইরের দেশে যে কোম্পানি আজ কল করেছে, পরের দিনই ঐ কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে শুরু থেকেই যে কোনো কোম্পানিকে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হয়। তাই বাজেটে নন লিস্টেট কোম্পানির কর কমানোর ফলে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হচ্ছে না।

জাস্ট নিউজ : ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ) পরবর্তী বাজার সর্ম্পকে আপনার মতামত  সর্ম্পকে কিছু বলুন ?

ওয়াফি এস এম খান: ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন একটা প্রক্রিয়া। এটা ভালোর জন্যই করা হয়েছে। আমাদের দেশে এটা অনেক পরে করা হয়েছে। এটা এমন কোনো প্রক্রিয়া নয়, যে আজ করবেন- কাল রেজাল্ট পাবেন। এটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, এর সুফল পেতে সময় লাগবে। এর ফলে পুঁজিবাজারে সুশাসন, জবাবদিহিতা বাড়বে।


জাস্ট নিউজ : পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

ওয়াফি এস এম খান :  বর্তমানে পুঁজিবাজার অনেকটাই গতিহীন। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে বাজারের গভীরতা বাড়াতে হবে। পুঁজিবাজারের ভাল-মন্দের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিকার আছে সার্কুলার জারি করার। বাজার বাস্তবতার আলোকে তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়, যা বাজারের জন্য নেতিবাচক হয়।

জাস্ট নিউজ : বিনিয়োগকারীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি ?

ওয়াফি এস এম খান: পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীদের সচেতনা জরুরি।  আপনারা (বিনিয়োগকারী) না বুঝে বিনিয়োগ করবেন না। আগে বুঝে পরে শেয়ার ক্রয় করবেন- এটা আমাদেরও  দায়িত্ব।  ব্রোকার হাউজগুলোর ইন হাউজ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিৎ। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের এটি বুঝাতে হবে যে, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদী, স্বল্পমেয়াদী নয়। সেই মানসিকতা নিয়েই এ ব্যবসার দিকে সবার হাত বাড়ানো উচিৎ।

জাস্ট নিউজ : অন্যান্য ব্রোকার হাউজের তুলনায় জিডিএসএল এর পার্থক্য কি?

ওয়াফি এস এম খান: বেসরকারি খাতের গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউস জিডিসিএল । অন্যান্য হাউজ থেকে এ আমাদের পার্থক্য হচ্ছে- আমাদের নিজস্ব গবেষণা সেল আছে। বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া শক্তিশালী গ্রাহক সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মনৈপুণ্যতা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও নতুন বিনিয়োগকারীদের সচেতন করাসহ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

জাস্ট নিউজ : সম্প্রতি গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটি লিমিটেড আন্তর্জাতিক সিএফআই পুরস্কার লাভ করেছে । এ পুরস্কার প্রাপ্তি সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছি ?

ওয়াফি এস এম খান: ক্যাপিটাল ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল (সিএফআই) একটি আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সেরা ব্রোকারেজ হাউজ হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। মূলত শক্তিশালী গ্রাহক সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মনৈপুণ্যতা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও নতুন বিনিয়োগকারীদের সচেতন করাসহ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সফলতার জন্য ক্যাপিটাল ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল জুডিয়াল প্যানেল বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘জিডিএসএল’কে মনোনীত করে।

সিএফআই পুরস্কার ২০১৪ অর্জন শুধু আমাদের নয়, পুরো শিল্পের জন্য মাইলফলক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্রোকারেজ হাউজ’র মানদন্ড উজ্জ্বল করেছে। এ সম্মান ধরে রাখতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।

জাস্ট নিউজ : পরিশেষে পুঁজিবাজার  নিয়ে আপনার  প্রত্যাশা কি ?

ওয়াফি এস এম খান : পুঁজিবাজার নিয়ে আমি সব সময় আশাবাদী। সূচক কখনো একটা জায়গায় থাকতে পারে না। একটা জায়গা ধাক্কা খৈয়ে আবার উপরে উঠে। সঠিক নির্দেশনায় আমরা আশাবাদী, আগামী দিনে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফোটবে। পাবলিক লিস্টেট কোম্পানি যত বাড়বে- বাজার ততটাই বিস্তৃত হবে। 

উল্লেখ্য, গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত ব্রোকারেজ হাউজ। ২০০৬ সাল থেকে পথচলা এ প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই এ অল্পসময়ে বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য সিকিউরিটিজ কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এটি দেশের শীর্ষ বীমা কোম্পানি গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

(জাস্ট নিউজ/এএ/এলএ/১৫৪০ঘ.)
মতামত দিন
মুখোমুখি :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ