Saturday October 21, 2017
মুখোমুখি
09 August 2014, Saturday
প্রিন্ট করুন
জাস্ট নিউজকে হাবীব উন নবী খান সোহেল
বাধা যত বেশি হবে, প্রতিরোধ তত তীব্র হবে
জাস্ট নিউজ -
ঢাকা, ৯ আগস্ট (জাস্ট নিউজ) : ৫ জানুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা আওয়ামীলীগ সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন ঈদের পরে সরকার পতনের চুড়ান্ত আন্দোলন করা হবে। সেই লক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। গঠন করা হয়েছে দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে থাকা ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি। চেয়ারপারসনের নির্দেশে দল পুর্নগঠন ও ঢাকা মহানগরকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করতে পুরো দমে কাজ শুরু করে দিয়েছে বর্তমান কমিটির নেতারা। বিএনপির এই আন্দোলন প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক ও বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির নব গঠিত কমিটির সদস্য সচিব, তরুণ রাজনীতিক হাবিব উন নবী খান সোহেল। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন জাস্ট নিউজ বিডি ডটকমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মো.আকতার হোসেন।

জাস্ট নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলে আসছিলেন ঈদের পরে সরকার পতনে চুড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত তেমন কোন জোরালো আন্দোলন দেখা যাচ্ছেনা কেন?

সোহেল: আওয়ামী দু:শাসনের বিরুদ্ধে এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আমরা অনেক আগে থেকেই আন্দোলন  করে আসছি। ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের পরে জনগণের স্বার্থে সেই আন্দোলন সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। আমরা কখনো আন্দোলন থেকে দূরে সরে যাইনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে এখন আবার নতুন করে সেই আন্দোলন শুরু হচ্ছে। অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

জাস্ট নিউজ: বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলনের কৌশল কী হবে?
সোহেল: ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, পেশাজীবি সকল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই আন্দোলন কৌশল নির্ধারণ করা হবে। ২০ দলীয় জোট নেতাদের সাথে সমন্বয় করে, স্থায়ী কমিটির নেতারাই আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক করবেন। তাছাড়া আমরা আগেই বলেছি আমরা গণতান্ত্রিক ও অহিংস আন্দোলন করবো। গণতান্ত্রিকভাবেই আমরা এই সরকারের সকল দুঃশাসনের প্রতিবাদ করে যাবো। এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। অবস্থা বুঝেই ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এখনই ঠিক করে বলা যাচ্ছেনা যে আমরা কী হরতাল অবরোধ করবো, নাকি আরো কঠোর আন্দোলনে যাব। সেটা সময় হলেই দেখা যাবে।

জাস্ট নিউজ: আগামী দিনের আন্দোলনটি কী জোটগত ভাবে করা হবে?
সোহেল: হ্যা। অবৈধ সরকারে পতনে ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন হবে তাতে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটও অংশগ্রহণ করবে। ২০ দলীয় জোটের শরীকদের সাথে সমন্বয় করেই করা হবে। এটা বিএনপির একক কোন আন্দোলন নয়।

জাস্ট নিউজ: এই আন্দোলনের লক্ষ্যমাত্রা কোন পর্যন্ত?
সোহেল: আমাদের দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দিতে বর্তমান অবৈধ জবরদখলকারি সরকারকে চুড়ান্তভাবে বাধ্য করা হবে। তাছাড়া দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য। এখন এই আন্দোলন ঠিক কতদিন দীর্ঘ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন চলছে চলবে, তা যতদিন লাগে লাগুক।

জাস্ট নিউজ: ইতোপূর্বেও দেখা গেছে বিরোধীদলের আন্দোলন দমনে সরকার নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন নিপীড়ণ চালিয়েছে, এবারও যদি সে রকম হয় তাহলে আপনাদের করণীয় কী হবে?

সোহেল: বিরোধী মত দমন পীড়ণ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চরিত্র। তারা অতীতেও ঘৃণ্যভাবে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে বিরোধী দল দমন করেছিল তা এখনো অব্যাহত আছে। তবে আমরা নির্যাতিত হতে হতে এসব এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। মামলা হামলায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই এসব কিছু মেনেই আমরা আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা সর্বোচচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

জাস্ট নিউজ: বিএনপির আন্দোলন প্রস্তুতির শুরুতেই আমরা লক্ষ্য করছি সরকার সিনিয়র নেতাদের পুরনো মামলাগুলো নতুন করে সচল করছে। এমতাবস্থায় যদি আগের মত সিনিয়র নেতৃত্ববৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে আন্দোলনের ভবিষ্যত কী হবে?

সোহেল: গ্রেফতার নির্যাতনের বিষয়টি মাথায় রেখে সেভাবেই আন্দোলনে ছক তৈরী করা হচ্ছে। আন্দোলনকে লক্ষ্যে নিয়ে যেতে এবার ধারাবাহিক নেতৃত্ব প্রস্তুত করা হচ্ছে। একজন গ্রেফতার হলে আরেকজন এসে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিবেন। এভাবে কয়েক স্তরের নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীরা সর্বোচচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের দমন পীড়ণ নির্যাতন কোনটিই এবারের আন্দোলনকে নস্যাত করতে পারবেনা।

জাস্ট নিউজ: আ’লীগের নেতারা বলে আসছে, দিন তারিখ নির্ধারণ করে ও আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন হয়না। বিএনপির আন্দোলন করার সামর্থ নেই, বিএনপি আন্দোলন করতে পারবেনা। এমন মন্তব্যের ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

সোহেল: আন্দোলন কখন করতে হবে, কীভাবে করতে হবে তা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছ থেকে আমাদের শিখতে হবেনা। আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের আন্দোলন কৌশল আমরাই নির্ধারণ করবো।

জাস্ট নিউজ: নতুন কমিটির নেতাদের সাথে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক শেষে আপনারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, দল গোছানো ও আন্দোলন একসাথে চলবে বিষয়টি যদি একটু ব্যাখ্যা করে বলেন।

সোহেল: দেখুন বিএনপি একটি অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। আর ঢাকা মহানগর বিএনপির পরিধিও অনেক বড়। এখানে ১০০টি ওয়ার্ড, ৫০টি থানা পুনর্গঠন একদিনেই সম্ভব নয়। একটু সময় লাগতেই পারে। আমরা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। এখন এর মধ্যে যদি আন্দোলনের ডাক আসে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বো। এর পাশাপাশি আমাদের দল পুনর্গঠন কার্যক্রমও চলতে থাকবে।

জাস্ট নিউজ: কমিট গঠন প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে?

সোহেল: আমরা প্রথমে ওয়ার্ড কমিটিগুলো সম্পন্ন করবো এর পর প্রত্যেকটি থানায় কাউন্সিল করে কমিটি গঠন সম্পন্ন হলে মহানগর কমিটি করা হবে। ওয়ার্ডগুলো থানার সাথে সমন্বয় করে ইউনিট কমিটি গঠন করবে। এ ক্ষেত্রে বিগত দিনের আন্দোলনে যেসব নেতা ত্যাগী ভূমিকা রেখেছেন তাদের এবং যোগ্য ও অভিজ্ঞদেরই স্থান দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের সাথে আলাপ আলোচনা করেই কমিটি দেওয়া হচ্ছে। কোন ব্যাক্তি  প্রভাব বা পকেট কমিটির প্রশ্নই ওঠেনা। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলনমূখী নেতৃত্বই খুঁজব আমরা ।

জাস্ট নিউজ: অতীতের আন্দোলনের ব্যর্থতার দায়ভার অনেকটা ঢাকা মহানগর কমিটির ওপরই  দেয়া হয়, এক্ষেত্রে আপনাদের নেতৃত্বে আগামী দিনের আন্দোলনে সফল হওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

সোহেল: অতীতে কী হয়েছে তাতে যাবনা। তবে অতীতের যত ভুলভ্রান্তি হয়েছে, তা শুধরে তৃণমূলের পরামর্শ নিয়েই আমরা কাজ করছি। তাছাড়া অতীতে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বে ৯০’এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছিলাম। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলাম। তখন আমাদের সবার ঐকান্তিক চেষ্টার কারণেই দেশনেত্রী সফল হয়েছিলেন। তাই আমি এ ব্যাপারে খুবই কনফিডেন্ট যে এবারও জনগনের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জয়ী হবো। অবৈধ জবর দখলকারী সরকারকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় করবো এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো।

জাস্ট নিউজ: অতীতে দেশে বড় ধরণের সফল আন্দোলনের কথা উঠলেই ছাত্র আন্দোলনের বিষয়টি সামনে চলে আসে। কিন্তু বর্তমান সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্র রাজনীতির তেমন একটা ভুমিকা দেখা যায়না। এমনটা কেন হচ্ছে?

সোহেল: এটা সত্য যে ছাত্র রাজনীতির সোনালী ঐতিহ্য আজ আর নেই। শাসকগোষ্ঠির কলুষিত রাজনীতির ছোবল বার বার আছড়ে পরেছে ছাত্র রাজনীতির ওপর। শাসক গোষ্ঠীর নোংড়া হস্তক্ষেপ ছাত্র রাজনীতিকে করেছে কদর্য, কলুষিত। তবে আমি এখনো আশাবাদী যে শীঘ্রই ছাত্ররা আবার তাদের হারানো ঐতিহ্যের আলোকে গর্জে উঠবে। আবারও কোন বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। কারণ তারাওতো বর্তমান সরকারের দুর্নীতি আর অপশাসন দেখছে। তারা নিশ্চয়ই আবার জেগে উঠবে।

জাস্ট নিউজ: আপনি ছাত্র জীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয়, বাংলাদেশ নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত ভাবনা কী?

সোহেল: এই মুহূর্তে আমি আন্দোলন ছাড়া অন্য কিছু ভাবছিনা। তবে দেশে শুধুমাত্র গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই আমাদের চুড়ান্ত লক্ষ নয়। আমি স্বপ্ন দেখছি একটি ক্ষুধা দারিদ্র মুক্ত আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। যে স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক,রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমি মনে করি আগামী দিনের কাণ্ডারী, ভবিষ্যত রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ কাঙ্খিত সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। কারণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য তারেক রহমানের সব ধরণে যোগ্যতা রয়েছে।

জাস্ট নিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ
সোহেল: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

(জাস্ট উিউজ/এ এইচ/এমকেএম/২২২০ ঘ.)
মতামত দিন
মুখোমুখি :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ