Thursday November 23, 2017
ঢাকার খবর
11 November 2017, Saturday
প্রিন্ট করুন
ছয় নারীকে ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ
ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার
জাস্ট নিউজ -
শরীয়তপুর, ১১ নভেম্বর (জাস্ট নিউজ) : শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদারকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ উজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই নেতার বিরুদ্ধে ফাঁদে ফেলে ছয় নারীকে ধর্ষণসহ ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত ওই নারীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে। আপত্তিকর ছবির সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবি যুক্ত করেও প্রচারণা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গ্রামবাসী জানায়, শুক্রবার থেকে ফেসবুকে ধর্ষণের শিকার নারীদের ছবি ও ভিডিও আপলোড করতে থাকেন কয়েকজন। আরিফ হোসেন ও ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের আপত্তিকর ছবির সঙ্গে নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজাহিদ মাঝি ও সাধারণ সম্পাদক আবুল মাদবরের ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে। রাজীব মাদবর নামে এক যুবকের ফেসবুক পেজ থেকে এ রকম ছবি পোস্ট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজীব মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনি নারায়ণপুরের ইকরকান্দি গ্রামের আমিনুল হক মাদবরের ছেলে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথমে কে এম সাইফুল ইসলাম নামের একজনের আইডি থেকে ওই নারীদের সঙ্গে আরিফ হোসেনের কয়েকটি আপত্তিকর ছবি আপলোড করা হয়। সেখানে মন্তব্যে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ও রাত ৮টা ৪২ মিনিটে দুটি ভিডিও আপলোড করেন রাজীব মাদবর নামের ওই যুবক।

সাইফুল ইসলামের ফেসবুক প্রোফাইল দেখা যায়, তিনি মিরপুর বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক। রাজীব মাদবর ও কে এম সাইফুল ইসলামের ফেসবুকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রাজীব মাদবরের বাবা আমিনুল হক মাদবর বলেন, রাজীব পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকে। সে কেন ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে, তা আমি জানি না। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।

শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মহসিন মাদবর বলেন, আরিফ যে কাজ করেছে, তা কোনো মানুষ সমর্থন করতে পারে না। আমরা সবাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ শাস্তিস্বরূপ তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজাহিদ মাঝি বলেন, আরিফ অন্যায় করেছে, তাঁর সাংগঠনিক শাস্তি হয়েছে। আমরা তো কেউ ফৌজদারি অপরাধের শাস্তি দিতে পারব না। আরিফকে আমরা কেউ প্রশ্রয়ও দিইনি। তাহলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কেন তাদের আপত্তিকর ছবির সঙ্গে আমাদের ছবি জুড়ে বদনাম ছড়াচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ভেদরগঞ্জ এম এ রেজা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ওই মেয়েদের সঙ্গে এখনো অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওগুলো এখনো ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে। পুলিশ কেন সাইবার আইন ও তথ্য প্রযুক্তি আইন প্রয়োগ করছে না। এর প্রয়োগ নিশ্চিত না করতে পারলে এভাবে সামাজিক অবক্ষয় হতেই থাকবে। আরিফ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী ওই নারীদের পরিবার ও গ্রামবাসীরা আতঙ্কে রয়েছেন।

জানতে চাইলে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি হাসান বলেন, আমরা আরিফকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। কেউ মামলা করতে চান না। মামলা না করলে এ রকম একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আমরা কীভাবে অগ্রসর হব।

(জাস্ট নিউজ/ওটি/১৬২৬ঘ.)
মতামত দিন
ঢাকার খবর :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ