Monday November 20, 2017
বহিঃবিশ্ব
24 October 2017, Tuesday
প্রিন্ট করুন
মিয়ানমারে নৃশংসতায় জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : যুক্তরাষ্ট্র
জাস্ট নিউজ -
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর (জাস্ট নিউজ) : গণতন্ত্রের পথে মিয়ানমারের যাত্রাকে সমর্থন দিলেও দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো হামলার জন্য দায়ী প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেদার নুওয়ার্ট ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রায় অর্ধশতকের স্বৈরশাসনের বেড়াজাল ভেঙে গণতান্ত্রিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের এই রূপান্তরকে সমর্থন করে। দেশটির নির্বাচিত বেসামরিক সরকার সে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য জরুরি। এটি মিয়ানমার ও মার্কিন অংশীদারত্বের জন্যও জরুরি।’

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা, রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো অত্যাচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এখানে এটা বলাও অপরিহার্য, যেকোনো ধরনের নৃশংসতার জন্য দায়ী প্রত্যেককেই জবাবদিহি করতে হবে।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম এরই মধ্যে কমানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সব ধরনের সামরিক সামগ্রী বেচাকেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট থেকে জেড অ্যাক্টের আওতায় মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ভ্রমণ ভিসা স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আইনের মধ্য থেকে গ্লোবাল ম্যাগনিটেসকি অ্যাক্টের আওতায় কীভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদার ও বিভিন্ন জোটের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায় কি না, তা-ও দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও কাজ করছে জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাখাইন রাজ্যের সংশ্লিষ্ট এলাকায় জাতিসংঘের তদন্ত দল ও গণমাধ্যমকে প্রবেশাধিকার দিতে তারাও দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গণতন্ত্রের পথে মিয়ানমারের যাত্রায় সব সময় সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংকট নিরসনেও পাশে থাকবে দেশটি। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীকে শিগগিরই শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। ওই রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া যাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাঁদের রাখাইন রাজ্যে যথাযথ সুবিধা দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিয়ে অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আর এসব নিশ্চিত করা হলে মিয়ানমারকে সব ধরনের সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

(জাস্ট নিউজ/জেআর/১০৫৫ঘ.)
সম্পর্কিত আরও খবর
মতামত দিন
বহিঃবিশ্ব :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ