Sunday October 22, 2017
মিডিয়া
10 October 2017, Tuesday
প্রিন্ট করুন
ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ৮ নভেম্বর
জাস্ট নিউজ -
ঢাকা, ১০ অক্টোবর (জাস্ট নিউজ) : বিশিষ্ট কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার অপহরণসহ চাঁদা দাবি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ নভেম্বর দিন ধার্য্য করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারি সংস্থা ডিবি পরির্দশক মো. মাহবুল হক প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো. খুরশীদ আলম এ দিন ধার্য্য করেন।

মঙ্গলবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য্য ছিল। গত ৪ জুলাই উদ্বারের পর ফরহাদ মজহার এবিষয়ে বিস্তারিত বর্নণা দিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের আদালতে ভিকটিম হিসাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গত ৩ জুলাই ভোরে শ্যামলীর রিং রোডের ১নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পরই নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার ঢাকার নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে। প্রথমে তাকে আদাবর থানা এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয়।

আদাবর থানার পুলিশ মামলার ভিকটিম হিসাবে তার জবানবন্দি রের্কড করার আবেদন সহগত ৪ জুলাই বেলা পৌনে ৩টায় তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে। সিএমএম-এর নির্দেশে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের আদালতে ১৬৪ ধারায় বিধান মতে তার দেয়া জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

ফরহাদ মজহার আদালতে নিজ জিম্মায় যাবার জন্য আইনজীবীদের মাধ্যমে আবেদন করেন। জবানবন্দি গ্রহন শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের আদালতে এবিষয়ে শুনানি শেষে আদালত ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় তার আবেদন মঞ্জুর করেন। তারপক্ষে এ্যাডভোকেট মো. সানাউল্লাহ মিয়া, জয়নাল আবেদিন মেজবা শুনানি করেন।

উল্লেখ্য, ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় গত ৩ জুলাই সোমবার রাতে স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪। এর আগে, তিনি থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং- ১০১।

আদালতের সূএ থেকে জানাগেছে, ফরহাদ মজহার তার দেয়া জবানবন্দি বলেন, সোমবার ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধরে চোখ বেঁধে একটি সাদা মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়।’

বাসা থেকে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বের হন। তাকে কেউ ফোন করেননি। বাসা থেকে বের হওয়ার পরই তাকে জোর করে অপহরণ করা হয়। নিখোঁজের পর উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত- পুরো বিষয়টি জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ৩ জুলাই সোমবার রাতে যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে নেয়া হয় আদাবর থানায়। সেখান থেকে তেজগাঁওয়ের ডিসি কার্যালয়ে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করতে পরে তাকে নেয়া হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে।

গত ৩ জুলাই সোমবার ভোরে শ্যামলীর রিং রোড ১ নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রীকে মোবাইলে ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬ বার ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে মোবাইল ট্রাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে। তবে কিভাবে তিনি যশোর পৌঁছালেন বা কারা তাকে সেখানে নিয়ে গেছে সে সব বিষয় এখনও পরিষ্কার নয়।

(জাস্ট নিউজ/একে/২১০৭ঘ.)

মতামত দিন
মিডিয়া :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ