Monday October 23, 2017
লন্ডন
07 October 2017, Saturday
প্রিন্ট করুন
টানা ৪ দিন লন্ডনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
জাস্ট নিউজ -
লন্ডন, ৭ অক্টোবর (জাস্ট নিউজ) : লন্ডনে শেখ হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভ টানা ৪র্থ  দিনের মতো শুক্রবারও অব্যাহত ছিলো। বিক্ষোভের শেষ দিন সকাল হতেই হোটেল স্যভয়’র সামনে অবস্থান নেয় সহস্রাধিক  বিএনপি সমর্থক নেতা কর্মী। লন্ডন ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন শহর থেকে দেশ ও গণতন্ত্র প্রেমী প্রবাসী বাংলাদেশীরা হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভে সামিল হতে সেন্ট্রাল লন্ডনে ছুটে আসে।

বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবৈধ এই প্রধানমন্ত্রীকে পৃথিবীর যেখানে দেখবেন, দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীদের কাছে অনুরোধ, তাকে ঘেরাও করে রাখবেন। আমিও থাকবো আপনাদের সাথে।

বিএনপি কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান বলেন, এই অবৈধ সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। সবাই তৈরি থাকুন। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বাকশালি অপশাসন থেকে মুক্ত করবই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করলেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

লন্ডনে নির্ধারিত হোটেলের সামনে আজ ৪র্থ তম দিন অবস্থান নেয় বিএনপি সমর্থক হাজারো কর্মী-সমর্থক। হাতে কালো পতাকা ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ-শ্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে ‘দ্য স্যভয়’ হোটেলের সামনের সড়ক।

গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ, গুম, খুন, হত্যা, লুটপাট এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শনে সমবেত হন বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মীরা। এসময় ‘নো মোর হাসিনা’, ‘গো ব্যাক হাসিনা’, ‘স্টপ কিলিং’, ‘সেভ বাংলাদেশ’, ‘রিস্টোর ডেমোক্রেসি’ ইত্যাদি শ্লোগান সম্বলিত ব্যনার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ,  বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ, তৈমুছ আলী, মুজিবুর রহমান মুজিব, গোলাম রব্বানী, শহিদুল ইসলাম মামুন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান, তাজ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, খসরুজ্জামান খসরু, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, শামসুর রহমান মাহতাব, দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ, ফেরদৌস আলম, আলহাজ সাদিক মিয়া, মিসবাহুজ্জামান সোহেল, আশরাফুল ইসলাম হীরা, রহিম উদ্দিন, নাসির আহমদ শাহীন, আমিনুর রহমান আকরাম, আব্দুল হামিদ খান হেভেন, তাজবির চৌধুরী শিমুল, আফজল হোসেন, আবু নাসের, সেলিম আহমেদ, সরফরাজ আহমদে সরফু, বাবুল আহমেদ চৌধুরী, কামাল চৌধুরী, এ জে লিমন, হেলাল উদ্দিন, আরিফ মাহফুজ, শিশু মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, মোঃ ফয়জুল হক, বশির মিয়া, আব্দুল হাই, মিসবাহ উদ্দিন, হারুন মিয়া, আসাদুজ্জামান আহমেদ, মাহবুব আহমেদ নোমান, হাসান আহমেদ।

মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ, আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুর রব, কদর উদ্দিন, আব্দুল গাফফার, খালেদ চৌধুরী, সোহেল আহমদ, কাওছার আহমেদ, আবু তাহের, জামাল উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, আরিফুল হক, রুবেল, মোঃ জিয়াউর রহমান, নজরুল ইসলাম মাসুক, মোঃ সেলিম মাহমুদ, শফিক মিয়া, মোঃ মাকসুদুল হক, এডভোকেট শেখ তারেকুল ইসলাম, সৈয়দ জিয়াউর রহমান জিয়া, সৈয়দ আকবর, সৈয়দ আতাউর রহমান সিহাব আহমেদ, জয়নাল আবেদিন, মোঃ মহসিন আহমেদ, আবু নোমান, মিছবাহ উদ্দিন, মোঃ ওমর গনি, ফখরুল ইসলাম, রেজাউর রহমান চৌধুরী রাজু, রায়হান চৌধুরী, মোমিনুল ইসলাম।

আব্দুল মজিদ, মাহবুবুর রহমান, আব্দুল বারী, আব্দুল হামিদ, কামাল উদ্দিন, জামাল উদ্দিন রুবেল, মাকসুদুর রহমান, মাওলানা শামিম আহমেদ, কয়েস আহমেদ, মিসবাহ বিএস চৌধুরী, আবুল হোসেন, শেখ মোঃ সাদেক, ডালিয়া লাকুরিয়া, জাহেদ আহমেদ তালুকদার, আব্দুল হক রাজ, দেওয়ান আব্দুল বাছিত, আকতার হোসাইন শাহিন, বাবর চৌধুরী, শাহজাহান হোসাইন শেনাজ, নুরুল আলী, মোজাহিদুল ইসলাম সুমন, শাহেদ আহমেদ, সুয়েদুল হাসান, শাকিল আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, তুরন মিয়া, আজির উদ্দিন, জিয়াউর রহমান, ফিরোজ আলম, মোফসল আলী, তরিকুর রশিদ চৌধুরী শওকত, বদরুল ইসলাম, আব্দুল মোতালিব লিটন, মোঃ সফিউল ইসলাম মুরাদ, সোহেল শরিফ, মোঃ করিম, রেজাউল করিম রিকি, ফুয়াদ আহমেদ, হুমায়ূন কবির হিমু, মনির আহমেদ, রেজান জামান, অঞ্জনা আলম, লুনা সাবিরা প্রমুখ।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রায় ৩শ' প্রতিনিধির একটি বিশাল বহর নিয়ে নিউইয়র্কের পথে ঢাকা ছেড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষে ২২ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা ভার্জিনিয়ায় যান। সেখানে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিবারের সঙ্গে এক সপ্তাহ কাটিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর তার দেশের পথে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি ফিরেননি। শেখ হাসিনার এই অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসংক্রান্ত নানা খবর উঠে এসেছে। শেখ হাসিনার অবস্থান ও চিকিত্সা সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমকে কিছু না জানিয়ে অনেকটা হঠাৎ করে গত ২৫ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে প্রধানমন্ত্রীর পিত্তথলিতে সফল অস্ত্রোপচার হয়ছে বলে সংবাদ মাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান তার প্রেস সচিব। যদিও মাত্র কয়েকদিন আগে দেশেই সকল চিকিৎসা নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এদিকে জয়ের কোন বাড়িতে অবস্থান করেছেন সেটিও পরিস্কার নয়। তার একাধিক বিলাস বহুল বাড়ি রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচিত্র খবর উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসে প্রধানমন্ত্রী ৬১টি ফাইল অনুমোদন করেছেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে ১ মাসের ছুটিতে পাঠিয়ে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে।

(জাস্ট নিউজ/ওটি/০৯৪৪ঘ.)



মতামত দিন
লন্ডন :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ