Monday May 29, 2017
জাতীয়
18 May 2017, Thursday
প্রিন্ট করুন
সৌদি আরব ও ইরানের দ্বন্দ্বে ঢাকা কি জড়িয়ে যাবে?
জাস্ট নিউজ -
ঢাকা, ১৮ মে (জাস্ট নিউজ) : ইরান ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব বেশ পুরনো, যার সৃষ্টি হয়েছে মূলত শিয়া ও সুন্নি মতবাদকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, ইরান শিয়া মতবাদ ছড়ানোর মাধ্যমে ইসলামী বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

কিন্তু সুন্নি মতাবলম্বী সৌদি আরব সেটি কখনোই মানবে না - সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এটা বলে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের সাথে আলোচনার কোন সুযোগ নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য ইরান ও সৌদি আরব এক ধরনের প্রক্সি ওয়ার (সরাসরি যুদ্ধ না করে অন্যকে সহায়তার মাধ্যমে যুদ্ধ) চালাচ্ছে।

সিরিয়ার যুদ্ধে সৌদি আরব যাদের সমর্থন করছে, ইরান তার প্রতিপক্ষকে মদদ দিচ্ছে।

ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে সৌদি আরব - বলা হচ্ছে সেখানকার হুতি বিদ্রোহীদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত সৌদি আরব যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে হুতি বিদ্রোহীদেরকে ইরান মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আগামী ২০ থেকে ২৩শে মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আরব-ইসলামিক-আমেরিকান সামিট।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ৩৪টি দেশের সরকার প্রধানরা এ সামিটে যোগ দেবেন। এসব মুসলিম দেশ সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক কোয়ালিশনে যোগ দিয়েছে।

এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ সম্মেলনে যোগ দিবেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মি: ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সৌদি আরবেই বেছে নিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে যে সন্ত্রাসবাদের সাথে মুসলমানদের কোন সম্পর্ক নেই এবং এটিকে দমন করা জরুরী হয়ে পড়েছে, এমন বক্তব্য মুসলিম দেশগুলো এ সম্মেলনে তুলে ধরবে।

সৌদি আরব বলছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্যই প্রায় দেড় বছর আগে ৩৪টি মুসলিম দেশের সমন্বয়ে সামরিক কোয়ালিশন গড়ে তোলা হয়েছে।

কিন্তু এ কোয়ালিশন সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষার জন্য কতটা আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কতটা - তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরান এ জোটে নেই।

এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নেতৃত্বে কোয়ালিশনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ কি সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে? অনেক বিশ্লেষক এ প্রশ্ন তুলছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী অবশ্য জানিয়েছেন, এ ধরণের আশংকা 'ভিত্তিহীন'।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা এ কোয়ালিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের মন্ত্রী।

অন্যদিকে, সন্ত্রাসবাদকে সৌদি আরব কোন দৃষ্টিতে দেখবে সেটিও এক বড় প্রশ্ন।

সৌদি আরব এবং ইরান পরস্পরকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য দায়ী করে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর উত্থান তার একটি বড় কারণ বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

শিয়া মতাবলম্বীরা ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এদের অস্ত্রধারীরা ইরাকে শিয়াদের হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ধারণা করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে শিয়াদের প্রভাব ঠেকানোর জন্য ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর উত্থানের অন্যতম কারণ।

সিরিয়া ও ইয়েমেন ছাড়াও লেবানন, বাহরাইন এবং ইরাকেও শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব প্রকট। এসব দেশে ইরান ও সৌদি আরব পরস্পরের প্রতিপক্ষকে ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে এ ধরনের একটি সামরিক কোয়ালিশন গড়ে তোলা সৌদি আরবের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান বলেন, সৌদি রাজতন্ত্র সন্ত্রাসকে একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।

তিনি মনে করেন এ জোট গঠনের পেছনে সৌদি রাজতন্ত্রের স্বার্থ যেমন রয়েছে, তেমনি সন্ত্রাস-বিরোধী একটি শক্তিশালী জোট গঠনের প্রয়োজনও আছে।

“জোটের ধারণা অঞ্চল-ভিত্তিক, স্বার্থ-ভিত্তিক এবং বিভিন্ন জায়গায় এর প্রাসঙ্গিকতা মূল্যবোধের ভিত্তিতে নির্ণয় হয়,” বলছিলেন অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, সৌদি আরব যখন বাংলাদেশকে কোন অনুরোধ কিংবা প্রস্তাব করে তখন সেটি ফিরিয়ে দেয়া বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন।

একদিকে বাংলাদেশের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ সৌদি আরবে কর্মরত আছে, অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরবের প্রভাব ইরানের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ মনে করে এ ধরনের একটি সামরিক জোট সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে কার্যকরী হবে।

বাংলাদেশে যেহেতু সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলা করছে, সেজন্য এ ধরণের জোটে তাদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো জোরালো করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে বাংলাদেশ সেসব দেশের নিজস্ব বিষয় বলে মনে করে। এ বিষয়টি বাংলাদেশকে কোনভাবেই প্রভাবিত করবে না বলে কর্মকর্তাদের ধারণা।

এ সামরিক জোটে বাংলাদেশ কোন সৈন্য দিচ্ছে না। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গবেষণা, তথ্য-আদান প্রদান এবং সেটি মোকাবেলার কৌশল নিয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ।

তবে মক্কা ও মদিনা যদি কখনো আক্রান্ত হয়, তখন মুসলমানদের কাছে অতি পবিত্র এই নগরী দুটোকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পিছপা হবে না বলে জানিয়েছেন মাহমুদ আলী।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে ন‌ব্বীর প্রতি মুসলমানদের ভালোবাসা ও ভক্তির কথা মনে রেখে যদি মক্কা-মদিনার প্রতি কোন হুমকি আসে তাহলে সেখানে কোন সাহায্য চাইলে আমরা অবশ্যই সেখানে সৈন্য পাঠাবো।

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, ইরান ও সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য যে ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, এ সামরিক জোট সে প্রভাব থেকে কতটা মুক্ত থাকবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। -বিবিসি

(জাস্ট নিউজ/ডেস্ক/একে/২১১৪ঘ.)


মতামত দিন
জাতীয় :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ