(জাস্ট নিউজ/একে/১৭৫০ঘ.)" /> Just News :: সৈয়দ শামসুল হক আর নেই
Saturday September 23, 2017
সাহিত্য আসর
27 September 2016, Tuesday
প্রিন্ট করুন
সৈয়দ শামসুল হক আর নেই
জাস্ট নিউজ -
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর (জাস্ট নিউজ) : সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক আর নেই। ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দেশবরেণ্য এই কবি মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক মনোরোগ চিকিৎসার পাশাপাশি লেখালেখিতে সক্রিয়।

লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে চার মাস চিকিৎসার পর ২ সেপ্টেম্বর সৈয়দ শামসুল হক দেশে ফেরেন। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে তিনি লন্ডনে যান। সেখানে পরীক্ষার পর তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। দেশে ফেরার পর তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে সৈয়দ হকের মরদেহ গুলশানে নিজ বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখান থেকে রাতেই লেখকের মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টায় সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এরপর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে নেওয়া হবে। সেখানেই সব্যসাচী এই লেখককে দাফন করা হবে।

১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ অভিধা পান তিনি। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। এছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সৈয়দ হকের মৃত্যুতে দেশের শিল্প সাহিত্য অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মহান এ সাহিত্যিকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। সেখানে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর ভর্তি হন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুলে। ১৯৫০ সালে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে সৈয়দ শামসুল হক ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৪৯-৫০ সালের দিকে ম্যাট্রিক পরীক্ষার পরে ব্যক্তিগত খাতায় ২০০টির মতো কবিতা রচনা করেন তিনি। সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালের মে মাসে। ফজলে লোহানী সম্পাদিত 'অগত্যা' পত্রিকায়। সেখানে 'উদয়াস্ত' নামে তার একটি গল্প ছাপা হয়।

শামসুল হকের বাবার ইচ্ছা ছিলো তাকে তিনি ডাক্তারি পড়াবেন। বাবার এ দাবি এড়াতে তিনি ১৯৫১ সালে বম্বে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি কয়েক বছর এক সিনেমা প্রডাকশন হাউসে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৫২ সালে দেশে ফিরে এসে জগন্নাথ কলেজে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মানবিক শাখায় ভর্তি হন। কলেজ পাসের পর ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে স্নাতক পাস করার আগেই ১৯৫৬ সালে সেখান থেকে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে বেরিয়ে আসেন। এর কিছুদিন পর তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয়।

(জাস্ট নিউজ/একে/১৭৫০ঘ.)
সম্পর্কিত আরও খবর
মতামত দিন
সাহিত্য আসর :: আরও খবর
প্রচ্ছদ
ছবি গ্যালারী
যোগাযোগ